ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় গত মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্সের এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক গ্রুপ ও তথ্য সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডাটা সংকলন করে এ জরিপ প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক। বার্তা সংস্থাটি জানায়, ডিসেম্বরে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি তেল উত্তোলন আগের মাসের তুলনায় দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার ব্যারেল কমেছে। এ সময় দেশগুলোর মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল।
জরিপ অনুযায়ী, জ্বালানি তেলক্ষেত্র রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সবচেয়ে বেশি উত্তোলন কমেছে। এ সময় দেশটির মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক গড়ে ২৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল, যা আগের মাসের তুলনায় ৯০ হাজার ব্যারেল কম।
বিশ্বে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে অন্যতম শীর্ষ দেশ ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত বছর দেশটির উত্তোলন ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চে পৌঁছায়। তবে ডিসেম্বর থেকে তা আবার নিম্নমুখী হতে শুরু করে। জরিপে দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত মাসে দেশটির জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে আগের মাসের তুলনায় দৈনিক গড়ে ৭০ হাজার ব্যারেল।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসসহ অন্যান্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করতে পারেন।
ওপেকভুক্ত দেশ সৌদি আরব ও ইরাক গত মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি উত্তোলনে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। জরিপে দেখা গেছে, সংস্থাটির চুক্তির আওতায় থাকা নয়টি দেশের মধ্যে বেশির ভাগই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। তবে এ সময় নাইজেরিয়ার উত্তোলন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি ছিল। দেশটি গত মাসে দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়িয়েছে।
নাইজেরিয়ার খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর কিছু পরিশোধন কেন্দ্রের কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রফতানি উভয়ই বেড়েছে।
লিবিয়াও ডিসেম্বরে দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর দেশটির উত্তোলন বেড়েছে।
এদিকে ওপেকভুক্ত দেশগুলো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার খবরে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ কমে যাওয়ার খবরও পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট। গতকাল এটির দাম বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ৬৯ সেন্ট বা দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৭৭ ডলার ৭৪ সেন্টে।
অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ৮৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। ব্যারেলপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৭৫ ডলার ১২ সেন্টে।
অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের গবেষণাপ্রধান হ্যারি তচিলিনগিরিয়ান বলেন, ‘রাশিয়া থেকে রফতানি কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। গত বছরের অক্টোবরের শুরু থেকে সমুদ্রপথ দিয়ে দেশটির জ্বালানি তেল রফতানি কমে যাচ্ছে।’